ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠান এবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর এই ভবনেই আনুষ্ঠানিকভাবে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ঈদকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনটি সেখানেই সম্পন্ন করবেন সরকারপ্রধান।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে গণপূর্ত অধিদফতর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, যমুনায় বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ করা হচ্ছে না, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রং করার মতো কাজগুলোই বর্তমানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পাশাপাশি সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশে সমস্যা থাকলে তা মেরামত করা হচ্ছে।
আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় গণমানুষ গণভবনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ভবনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত গণভবনে আর থাকার সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই সরকারপ্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত দাফতরিক কাজ পরিচালনা করছেন, যা দীর্ঘ পথ ও যানজটের কারণে সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। যমুনায় স্থানান্তরিত হলে এই দুই দফতরের সঙ্গে দূরত্ব কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার মোট আয়তন প্রায় ৮ একর, যার মধ্যে ভেতরের অংশ ৫ দশমিক ২ একর এবং বাইরের অংশ ২ দশমিক ৮ একর। ভবনটির অফিসসহ মোট আয়তন প্রায় ৩৫ হাজার বর্গফুট।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং বড় ধরনের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মূলত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজই চলছে এবং আশা করা হচ্ছে দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে।
এদিকে যমুনায় ইতোমধ্যে দুই দফায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সরকারপ্রধান। এসব আয়োজনে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, যা ভবনটির আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।