Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সময়মতো ছাড়ছে ট্রেন, কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:১৪ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:১৮

ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: ঈদুল ফিতর সামনে নানান শ্রেণিপেশার ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেনগুলো শিডিউল মেনে চললেও অতিরিক্ত মানুষের চাপে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে ঢাকা ছাড়তে। আসনের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকেই নিজের আসনগুলোতে বসতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে বেশিরভাগ ট্রেনই সময়মতো ঢাকা ছেড়েছে। তবে উত্তরের ট্রেনগুলোতে দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকাজুড়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় বাড়ছে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল মানুষের ঢল, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এরই মধ্যে নিরাপদ ভেবে মানুষ ট্রেনকেই বেছে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কমলাপুরে আসা একাধিক যাত্রী জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কপথে যানজটের আশঙ্কা থাকায় অনেকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রার জন্য ট্রেনকে বেছে নিয়েছেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অধিকাংশ ট্রেনের ভেতর ছিল ঠাসাঠাসি অবস্থা। অনেক যাত্রী ভেতরে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদেও উঠতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমা খাতুন জানান, বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত তার কয়েকটি টিউশনি ছিল। ঈদ উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়ে আজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। অনলাইনে আগে টিকিট কাটতে না পারায় স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু যাত্রীর চাপ এত বেশি যে ট্রেনের ভেতরে জায়গা পাননি। ফলে নির্ধারিত পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে উঠতে হয়েছে তাকে।

আসমা আরও বলেন, এখন শুধু দোয়া করছি আবহাওয়া যেন ভালো থাকে। পরিবারের জন্য কিছু পোশাক কিনেছি। বৃষ্টি হলে ব্যাগ ভিজে যাওয়ার ভয় আছে। আজ আকাশ কিছুটা মেঘলা। তবে ভালো লাগছে এই কারণে যে, নির্ধারিত সময়েই ট্রেন পেয়েছি।

দেওয়ানগঞ্জগামী যাত্রী রবিউল ইসলামও তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছেন। কিন্তু টিকিট থাকলেও ট্রেনের ভেতরে ওঠার সুযোগ পাননি। তিনিও ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণের চেষ্টা করছেন।

রবিউল বলেন, যেভাবেই হোক ট্রেনের ছাদে উঠতে হবে। বাসে গেলে অনেক সময় লাগবে। এখান থেকে মহাখালী যেতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে। তার ওপর ঈদের আগের দিন হওয়ায় রাস্তায় যানজট থাকার আশঙ্কা আছে। আমার সঙ্গে স্ত্রী ও বোন আছেন। আগে তাদের ছাদে উঠানোর চেষ্টা করছি, তারপর আমি উঠবো। একটু কষ্ট হলেও ট্রেনে গেলে তুলনামূলক দ্রুত ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো যাবে।

রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ধুমকেতুর যাত্রী আসিফ জানান, তিনি নির্দিষ্ট বগির জন্য টিকিট কাটলেও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নিজের আসন পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ পাননি। তবে চেষ্টা করছেন নিজের আসনের কাছে পৌঁছুতে।

এদিকে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিন ধাপে টিকিট যাচাইয়ের পর যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন না কেউ।

ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আরিফ হাসান জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে বেশ কয়েকটি কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে, যেন ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তেও যাত্রীরা স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। মোট বিক্রি হওয়া টিকিটের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এসব টিকিটে আসন না থাকলেও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর