ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির বেশি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপি’র সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যাচাই-বাছাই কমিটি। ১২০টিরও বেশি অধ্যাদেশের বিষয়ে এরই মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২ এপ্রিল এই পর্যালোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কোনগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাখা হবে আর কোনগুলো বাতিল হবে, সে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। সুনির্দিষ্ট তালিকাটি এখনো চূড়ান্তভাবে ‘সর্ট-আউট’ করা হচ্ছে। ২ এপ্রিল রিপোর্টের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দলিল। এর ৩ নম্বর পেজের ৬-এর ‘ক’ ধারা অনুযায়ী, সনদের ৮৪টি আর্টিকেলের মধ্যে ১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত অংশ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। যারা একে বাইপাস করে ভিন্ন কোনো আদেশ দিতে চায়, তারা সনদের পরিপন্থী কাজ করছে। আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদের বাইরে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেইনি। জুলাই সনদ ও সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং অত্যন্ত রেসপেক্টেড জায়গা।
কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি, চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক এমপি, এ এম মাহবুব উদ্দিন এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি, মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, মো. মুজিবুর রহমান এমপি, মো. রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং জি, এম, নজরুল ইসলাম এমপি বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।