ঢাকা: পদমর্যাদা বৃদ্ধি (আপগ্রেডেশন) এবং নতুন পদ সৃষ্টিসহ সব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ অভিনন্দন বার্তায় সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান এই দাবি জানান।
বার্তায় সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে, প্রবাসী ও দেশীয় ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ‘পোস্টাল ব্যালট’-এর ব্যবহার নির্বাচনকে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক করেছে, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন বেশ কিছু সময়োপযোগী আইনি সংস্কার করেছে। মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের চমৎকার সমন্বয়ের কারণেই এই নির্বাচন অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
তাছাড়া, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আইনানুগ জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রটি) তালিকা প্রণয়ন করায় কর্মকর্তাদের মাঝে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ‘ইসি সার্ভিস’ গঠনসহ নানা কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে, যা কর্মীদের কাজের উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংগঠনটি মনে করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসি কর্মকর্তাদের সংগঠনটি জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ও এর তথ্যভাণ্ডার নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখাই যৌক্তিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩’ বাতিল করে এই সেবা পুনরায় ইসির অধীনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
পরিশেষে, কর্মকর্তাদের পদ আপগ্রেডেশন ও নতুন পদ সৃজনের মতো ঝুলে থাকা দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে বর্তমান কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।