ইরান যুদ্ধের কারণে কুয়েতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথ খুঁজে বের করেছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে বাসে করে কুয়েতে পাঠানোর প্রস্তুতির কথা বলেছে সেখানকার বাংলাদেশি দূতাবাস।
এর অংশ হিসেবে সোমবার (৩০ মার্চ) দাম্মাম হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট চলবে বলে তথ্য দিয়েছে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে দাম্মাম-ঢাকা রুটে কুয়েত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর আশার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে দূতাবাস।
এ পদক্ষেপে দেশ থেকে কুয়েতে যেতে অপেক্ষায় থাকা ভিসাধারী কর্মীদের যাওয়ার পথ সুগম হবে। একইভাবে সেখানে থাকা প্রবাসীদের যারা দেশে আসতে বা ফিরতে চান তাদেরও আসার পথ খুলবে।
রোববার (২৯ মার্চ) কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটে দাম্মাম যাওয়ার পর সেখান থেকে বাসে করে সীমান্তের ওপারে কুয়েতে নেওয়ার প্রস্তুতির এ তথ্য দেওয়া হয়। একই পথে কুয়েত থেকে প্রবাসীদের দেশ আসার সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়।
ইরান যুদ্ধের পর পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা বাড়তে থাকায় বেশ কিছু দেশ আকাশপথে চলাচল বন্ধ রাখে। ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরে কিছু দেশে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও কুয়েতে হয়নি।
এতে বাংলাদেশের বড় এ শ্রমবাজারে নতুন কর্মী যেতে পারছে না। দেশে ফেরার টিকেট কেটেও আসা হচ্ছে না অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার বাংলাদেশি দূতাবাস এমন উদ্যোগের কথা জানাল।
দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতাবাস প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বিকল্প এ পথ চালু করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমান, কুয়েত এয়ারলাইন্স ও জাজিরা এয়ারওয়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
“দূতাবাসের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে আজ ৩০ মার্চ (সোমবার) থেকে প্রতিদিন (২ এপ্রিল বাদে) সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এবং অতি শিগগির দাম্মাম-ঢাকা রুটে কুয়েত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দাম্মাম থেকে কুয়েত সিটির দূরত্ব ৪২৫ কিলোমিটারের মত। বাসে যেতে চার ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে দাম্মাম হয়ে কুয়েতে যেতে হলে সৌদি আরবের ট্রানজিট ভিসা বা এন্ট্রি পারমিট প্রয়োজন হবে।
এজন্য কাজ চলার তথ্য দিয়ে দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশ বা অন্যান্য গন্তব্যে ভ্রমণ করার লক্ষ্যে এ অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকায় সৌদি আরবের দূতাবাসের মাধ্যমেও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।