ঢাকা: রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান নিয়ে স্বস্তির সুযোগ নেই। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৫তম।
যদিও এই অবস্থান তালিকায় কিছুটা নিচের দিকে মনে হতে পারে, তবে বাতাসের গুণগত মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ঢাকার বায়ু এখন ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য এই আবহাওয়া যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক তালিকায় দেখা গেছে, আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ, যার স্কোর ২৩০। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুয়েত সিটি (২২৭) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি (১৭৭)। তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, নেপালের কাঠমান্ডু এবং পাকিস্তানের লাহোর।
এসব শহরের বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে বিরাজ করছে। আজ সকালে ঢাকার বায়ুমান স্কোর ছিল ১১৭, যা নির্দেশ করে যে এখানকার বাতাস সংবেদনশীল মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই স্কোর অনুযায়ী শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বাইরের পরিবেশ বেশ প্রতিকূল।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বায়ুদূষণের এই মাত্রা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দূষণ থেকে বাঁচতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ ছাড়া রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় চোখ ও ত্বক রক্ষা করতে সানগ্লাস এবং ফুল হাতা পোশাক পরা উপকারী হতে পারে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার পর ভালো করে মুখ-হাত ধুয়ে নেওয়া জরুরি। বায়ুর মান যতক্ষণ পর্যন্ত ‘স্বাভাবিক’ বা ‘ভালো’ পর্যায়ে না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শারীরিক ব্যায়াম বা জগিংয়ের মতো কাজগুলো উন্মুক্ত স্থানের বদলে ঘরের ভেতরে করার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি নির্মাণকাজের ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।