Saturday 13 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভালুকায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলনে হামলার অভিযোগ এমপির অনুসারীদের বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুন ২০২৬ ০১:১০ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০১:৪৪

ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর।

ময়মনসিংহ: ভালুকা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) অনুষ্ঠিতব্য কর্মী সম্মেলনকে ঘিরে শুক্রবার রাতেই সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্তর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয় এবং সম্মেলনে না যেতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। শনিবার সকালে অনন্ত তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভালুকা পাঁচ রাস্তার মোড়ে জড়ো হলে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে অনন্ত ও তার অনুসারীরা স্থানীয় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ হাসানের অনুসারীরা হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আল মদিনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিলে সেখানেও ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা কয়েকটি বাস চালকদের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের মারধর ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাফিউল্লা চৌধুরীর সমর্থকদের নিয়ে চৌধুরী বাড়ির সামনে সমবেত হওয়ার সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা তাদের দুটি ট্রাক পাঁচ রাস্তার মোড়ে আটকে ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা ইউনিয়ন থেকে আসা দুটি টাটা এইচ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভালুকা ডিগ্রি কলেজের ভেতর আটকে রাখা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে রাফিউল্লা চৌধুরীর পিতা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী নেতাদের দাবি, গত দুই দিন ধরে শাহরিয়ার অলিউল্লাহ অনন্ত, শরীফ হাসান ও রাফিউল্লা চৌধুরীর সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, ‘প্রত্যেকটি পদের বিপরীতে ১০ জনের ওপরে প্রার্থী রয়েছেন। এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীকে সড়কের অলিগলিতে বিভিন্ন জায়গা আটকানোর চেষ্টা করছেন বলে আমরা শুনেছি। ছোটখাটো হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব। এরপর যোগ্য এবং দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে বিভিন্ন পদে জায়গা দেওয়া হবে।’

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাফিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কর্মী-সমর্থক এবং যানবাহন বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে হামলা করেছেন শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং যুবদলের কর্মীরা। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে আটকানোর জন্যই করা হয়েছে। বিশেষ করে আমার কর্মী সমর্থকদের ট্রাক আটকে রাখা হয়েছিল। তখন আমার বাবা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতা করতে যাওয়ায় আমার বাবা সাইফুল্লাহ চৌধুরীর ওপরও হামলা করা হয়। এই ঘটনায় আমরায় বিচার দাবি করছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর