ঢাকা: ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের ‘নাটক সাজিয়ে’ প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা করা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মহানগর শাখার, বিভিন্ন কলেজের নেতাকর্মীরা অংশ নেন ।
এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারাসহ সব পর্যায়ের নেতা এবং জামায়াতে ইসলাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সবাই একযোগে বলেছে, দেশে নাকি গুমের কালচার পুনরায় শুরু হয়েছে।’ সরকারকে বিতর্কিত করতেই এই ঐক্যবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামাত শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা বিগত দু’টি বছর প্রতিনিয়ত মবকে উসকানি দিয়েছে, সরাসরি মব ক্রিয়েট করেছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, সোশ্যাল মিডিয়াকে যারা নিয়ন্ত্রণ করে অনবরত প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার, নোংরামিতে লিপ্ত রয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘যখন তারা গুমের একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছে তখন গণমাধ্যমে বলেছে, সেই শিবির নেতা জিসান মিয়া নাকি তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। যদি সে (জিসান) এরকম একটি বিতর্কি কাজ না করত, গুমের নাটক না করত, তাহলে আমরা জানতেই পারতাম না যে জিসান ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সংসদের সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক।’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গুপ্ত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুপ্তভাবে রাজনীতি করে তারা যেই উদ্দেশ্য হাসিল করার অপচেষ্টা গত দুই বছরে করেছিল সেটি এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। গুপ্ত একজন শিবিরের পরিচয় আমরা আজ গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি।’
নাছির উদ্দীন বলেন, ‘শিবিরের প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রেমের অপরাধে নাকি সেই ধর্ষক জিসানকে তারা বহিষ্কার করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, ধর্ষণ ও খুনের অপরাধের জন্য তারা কোনো বিচার করেনি এবং সেটি তারা তাদের গুপ্ত প্রেস রিলিজে প্রকাশ করেনি। তাহলে আমরা বুঝলাম যে, প্রেম করার অপরাধে তারা বিচার করে। কিন্তু খুন, হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধ তাদের কাছে কোনো অপরাধ বলে গণ্য হয় না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘যখনই কোনো নাটক মঞ্চস্থ হয় তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমির গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উনার ভেরিফাইড আইডিতে সেই নাটক মঞ্চস্থ করেন এবং মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ান।’
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামাত-শিবির বাংলাদেশে জনবিরোধী বাটপারি এবং মুনাফেকি রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা তারা করছে। তারা বারবার নারী হেনস্তাকারীদের পক্ষ নিয়ে একের পর এক নারীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।’