যুদ্ধবিরতি ও ইরানের কঠোর হুশিঁয়ারির পরও লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় একইসঙ্গে ৮ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের তায়েরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বন্দরনগরী তায়েরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলার আগে শহরটির বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা বলেছিল, সেখানে থাকা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। নির্দেশনার পরই এই হামলা চালানো হয়। লেবাননে ২ মার্চ সংঘর্ষ শুরুর পর টাইরে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলা।
রয়টার্স যাচাই করা একটি ভিডিওতে হামলার পর শহরের পূর্ব প্রান্তের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। একটি সড়কের পুরো অংশজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা এখনও জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গত রোববার (৭ জুন) হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। এর জেরে ওইদিন রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে মিসাইল ছোড়ে ইরান। ওইদিন রাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পালটা হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার (৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা বন্ধে সম্মত হয়।
তবে, ইসরায়েল বৈরুতে হামলা না করলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে যুদ্ধবিরতি থেকে বাদ দেয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার (৮ জুন) জানান, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা অব্যাহত রাখবেন। এতে যদি ইরান ও হিজবুল্লাহ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে তারা পালটা হামলা শুরু করবেন।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়ে দেয়, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে এবং ইসরায়েলকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।