Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী সহায়তা করছে: পাটমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৭ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪

ঢাকা: পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগত মান ও বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী নীতি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এ কথা জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববারের প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট ও পাটজাত পণ্য অতীতের জৌলুস হারিয়েছে– এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ নয়। বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ফলে প্রাকৃতিক ও বায়োডিগ্রেডেবল তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষত প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।

পাটমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পাটকলগুলো তাদের বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগত মান ও বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নানামুখী নীতি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শ সভার মাধ্যমে তাদের সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাট খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসইভাবে উন্নত করার লক্ষ্যে পাট আইন, ২০১৭ এবং জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ সময়োপযোগীভাবে হালনাগাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাট খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সরকারের অঙ্গীকার অব্যাহত রয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস