Tuesday 05 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মেগা প্রকল্পে অপচয় রোধ ও জনসুফল নিশ্চিতের নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ মে ২০২৬ ২৩:৪৩

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ঢাকা: যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ছাড়া বড় প্রকল্প নিয়ে জনগণের অর্থের কোনো অপচয় করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মেগা প্রকল্পের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পরিকল্পনার ঘাটতি বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অপচয় রোধে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞাপন

সেতুমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, সঠিক সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হলে যেকোনো প্রকল্প শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আগের মতো যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এখন থেকে আর কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি তহবিলের প্রতিটি টাকার ব্যয় যেন জনস্বার্থ নিশ্চিত করে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

কর্মশালায় প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক কাজী মো. ফেরদাউস। ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে সাভার ও নারায়ণগঞ্জ পার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রমকারী এই প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজতর হবে এবং রাজধানী ঢাকার ওপর বিদ্যমান তীব্র যানজটের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বড় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপচয় রোধে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, এই বিশাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে নির্মাণ ব্যয় ২২ হাজার কোটি এবং ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালে এক্সপ্রেসওয়েটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত হলে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর