Tuesday 12 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার: রণধীর জয়সোয়াল

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ২২:১২

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্ত আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।

মঙ্গলবার (১২ মে) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার ঠিক একদিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকরা রণধীর জয়সোয়ালকে প্রশ্ন করেন। সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ–ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না? সে প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এ নিয়ে সোমবার (১১ মে) এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে এখন আর ভয় দেখানোর জায়গা নেই। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতার ভয় পায় না।’

নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ অবৈধভাবে অন্য দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের যাওয়ার বিষয়ে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতার (জিরো টলারেন্স) কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের একাংশের ইউরোপে পাড়ি দেওয়া প্রসঙ্গে এই যে নীতির কথা বলেছেন তা ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না?

রণধীর জয়সোয়াল এই প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেননি। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এটি (অনুপ্রবেশ) তার অন্যতম। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এমন ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত মনে করে, তারা সবাই বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ওই বিষয়ে কিছু জানায়নি।’

ব্রিফিংয়ে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গও ওঠে। এক সাংবাদিক প্রশ্নে বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিতে তাদের অনুরোধ করেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশের আগের সরকারের সিদ্ধান্ত (যেখানে ওই প্রকল্পের ভার ভারতকে নিতে বলা হয়েছিল) বদলে এই জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট করে কি না?’

এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি রণধীর। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেখানে যেকোনো স্থানে যেকোনো ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হয়। এ ক্ষেত্রেও সেই নজর রয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে পারস্পরিক স্বার্থই প্রাধান্য পায়।’

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি ফলাফল বাংলাদেশে কোনো কোনো মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এমন খবরের বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভারত ইতিবাচক করে তুলতে চায়। ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চায়। সেই মনোভাবের বদল হয়নি।’