ঢাকা: নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটির মতে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার মতো বিশাল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞে বিএনসিসি একটি দক্ষ সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করতে চায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসমূহ-যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন-দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নির্বাচনসমূহ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যেমন অত্যন্ত জরুরি, তেমনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়াও একটি নির্ভুল ও সময়োপযোগী প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত।
বিএনসিসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো হলো:
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই: ক্যাডেটরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ এবং মৃত বা এলাকা পরিবর্তন করা ভোটারদের তথ্য যাচাই করে তালিকা নির্ভুল করতে সাহায্য করবে। সংগৃহীত তথ্যের অসঙ্গতি দূর করতে তারা দ্বিতীয় পর্যায়ে যাচাইয়ের কাজও করতে পারে।
প্রযুক্তিগত ও দাফতরিক সহায়তা: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা বা ডাটা এন্ট্রির কাজ এবং প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা: নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইনে রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা এড়াতে ক্যাডেটরা ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করবে, যাতে মূল বাহিনী তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
ভোটার সহায়তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট: প্রবীণ, নারী এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের কেন্দ্রে যাতায়াত ও ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে ক্যাডেটরা কাজ করবে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের বুথ সাজানো এবং নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনেও তারা সাহায্য করতে পারবে।
জনসচেতনতা ও নির্দেশনা: প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা ভোটারদের প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে দেওয়া এবং বুথের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা দিতে কেন্দ্রে বিশেষ সহায়তা ডেস্ক পরিচালনা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিএনসিসি-র এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য কমিশনের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও অতীতে ব্যয় সংকোচনসহ বিভিন্ন কারণে বড় পরিসরে ক্যাডেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে কমিশন সরে এসেছিল, তবে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় তাদের সাফল্যের নজির থাকায় এবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।