Tuesday 12 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শাবনূরের বাবা হত্যার রায়
খালাস পেলেন নিখোঁজ ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির ৩৮ নেতা

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
১৩ মে ২০২৬ ০০:০১ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০০:০৬

সিলেট: দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবার হত্যা মামলা থেকে বিএনপির ৩৮ নেতা খালাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ-জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হলে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেট-এর (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ মামলা থেকে আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, জেলা যুবদল সেক্রেটারি মকসুদ আহমদ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মী।

প্রায় দেড় দশক আগে দায়ের করা ওই মামলায় চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা কাজী শাহজাহান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট বিএনপি নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এ মামলাটি সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদেরকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর আদালত শেষ পর্যন্ত তাদের খালাসের আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল বদিকোনা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো এবং একই সঙ্গে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত হন চিত্র নায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী শাহজাহান চৌধুরী (৭০)। যার পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বেওয়ারিশভাবে মরদেহ দাফনের ১৩দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি। ঘটনার দুইদিন পর ২০ ডিসেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ওই ব্যক্তির মরদেহ সিলেট নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জোৎস্না বেগম নামের এক নারী দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা। ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের নাম কাজী শাহজাহান চৌধুরী (৭০)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে পায়ের জুতা ও মুখমণ্ডলের ছবি, হাতের ঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন তিনি।

জোৎস্না পুলিশকে আরও জানিয়েছিলেন, কাজী শাহজাহান চৌধুরী ৩টি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী শাবনূরের মা। সর্বশেষ মৌলভীবাজারে স্বপ্না বেগম নামে এক জনকে বিয়ে করেন।

গাড়িতে আগুনের ঘটনায় ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি মামলা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন।

মামলায় আসামি করা হয় বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি আজমল বখত সাদেক, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোর্শেদ, বিএনপি নেতা কোহিনুর আহমদ, আশিক, রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু, এম এ মান্নান, অলিউর রহমান, কামাল হোসেন, রুবেল আমিন সুমন (কাউয়া সুমন), তোফায়েল আহমদ সুহেল, শরিফ আহমদ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত, সুহেল, মো. কামরুজ্জামান, শাহাব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, শামীম, তাজুল ইসলাম, আলী মিয়া, হোসেন আহমদ, ছালেক আহমদ, জোবায়ের আহমদ, ফখরুল ইসলাম ফারুক ওরফে টাকু ফারুক, লুৎফুর রহমান, মো. জাহেদ হোসেন, জালাল আহমদ, মুসা মিয়া, জিহাদ চৌধুরী, মো. আব্দুল মজিদ, মজম্মিল আলী, আঙ্গুর মিয়া ও সুহেদুর রহমানকে।

মামলার রায়ের সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর