Friday 05 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্র শক্তিশালী মাধ্যম’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২৬ ২১:৩৯

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী বার্তা থাকে এমন চলচ্চিত্রকে সরকারের অনুদান প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। আর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট যেকোনো চলচ্চিত্রের প্রস্তাবকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।’

শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আয়োজিত ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশন আয়োজিত এই উৎসবে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি যুগোপযোগী ও স্পর্শকাতর বিষয়কে মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য এবং চলচ্চিত্রকে সচেতনতার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের জন্য আয়োজকদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনকে কেবল প্রথম আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতি বছর আরও পরিকল্পিতভাবে করা উচিত।’

প্রতিটি ফিল্ম প্রোডাক্ট ও কন্টেন্ট মানসম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নয়, এর বাইরেও সর্বোচ্চ প্রচারের আওতায় আনতে হবে। যারা এখনো পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অসচেতন, তাদের চিন্তার খোরাক জোগাতে এই শর্ট ফিল্ম ও কন্টেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রচারের ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের যে চলচ্চিত্র অনুদান প্রক্রিয়া ও নীতিমালা রয়েছে, সেখানে আপনাদের এই উদ্যোগগুলো কীভাবে সংযুক্ত হতে পারে, তা আপনারা নিজেরা একটু খুঁজে দেখবেন। আমরা নীতিমালার আলোকে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

উৎসবের উদ্যোক্তা এবং তরুণ নির্মাতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই যাত্রাটা যতই সীমিত পরিসরে হোক না কেন, এর প্রভাব কিন্তু বৈশ্বিক। ফলে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মন ও সক্রিয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাথা উঁচু করে আপনাদের এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

উৎসবে উপস্থিত আলোচক ও বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে চলচ্চিত্র, গল্প ও সৃজনশীল সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসডো ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এবং নেক্সাস টেলিভিশনের মিডিয়া পার্টনারশিপে আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশী-বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর