ঢাকা: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বিশ্ব শ্রম ব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উরুগুয়ের শ্রমমন্ত্রী হুয়ান কাস্তিলো অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।’ একইসঙ্গে আইএলসির সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্বের চলমান সংকট প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের শ্রম খাতের সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শ্রম আইন সংশোধন এবং ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নতুন শ্রম আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। শ্রমবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ছয়টি নতুন শ্রম আদালত গঠন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সংলাপ জোরদারে একটি জাতীয় ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’ কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘জেন্ডার রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি তিনটি নতুন আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের মাধ্যমে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অনুমোদিত কনভেনশনের সংখ্যা ৩৯, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।’
বিশ্ব অর্থনীতিতে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শ্রমের মূল্য কোনো দেশের অর্থনীতির আকার দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত নয়।’ বর্তমানে ১২৯টি দেশের সম্মিলিত দাবি কয়েকটি দেশের কারণে আটকে আছে উল্লেখ করে তিনি আইএলওকে আরও গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।