দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিশেষ প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে না পারার সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিয়া টুডে-র ব্রিকস গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
গোলটেবিল বৈঠকে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন এবং আমরা বাংলাদেশে যা দেখছি তাতে তার অবস্থান একেবারেই সুসংহত; যিনি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তবে তিনি বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এমন প্রশ্নের উত্তরে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, আপনি একে ‘অস্বীকৃতি’ বা ‘প্রত্যাখ্যান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতেই পারেন, তবে আমি বা অন্য কেউ এটাকে সেভাবে দেখবে বলে আমার মনে হয় না।
ঠিক সাড়ে ছয় মাস হলো বাংলাদেশে এখন আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বা প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। এবং সেখানে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি ছিল, যার কারণে মূলত প্রধানমন্ত্রী এসে সম্মেলনে যোগ দিতে না পারার সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
এটাই হলো এর সবচেয়ে সহজ উত্তর এবং আপনি সেটা জানেন। আমি মনে করি শুধু আপনি নন, দিল্লির অনেকেই, বিশেষ করে যারা এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তারা জানেন যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে বেশ আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে শুধু ব্রিকসে নয়, বরং এই ধরনের সম্মেলন যেখানেই হোক না কেন, সেখানে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি এখন একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এটি একটি স্বাগত জানানোর মতো বিষয়। আমি মনে করি যে কেউ এটিকে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক দৃষ্টিতেই দেখবে।
তবে, একইভাবে ব্রিকস সম্মেলন যখন দক্ষিণ এশিয়ায় বা ভারতে অনুষ্ঠিত হয়, তখন একটি আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক-দুঃখিত, আঞ্চলিক সংস্থার প্ল্যাটফর্মকে (যেমন এই ক্ষেত্রে বিমসটেক) আমন্ত্রণ জানানোটা বেশ যুক্তিযুক্ত। এ বিষয়ে এটাই আমার মতামত। এটা খুব বড় কোনো বিষয় নয়। আপনি যদি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা অন্যান্য অঞ্চলে যান, সেখানেও এমনটা দেখা যায়।