ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের বয়ানই বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় গতিপ্রবাহ নির্ধারণ করে। কোনো পরগাছার বয়ান, ধার করা ব্যাখ্যা কিংবা ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা কখনও জনগণের ইচ্ছার বিকল্প হতে পারে না।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন মিলনায়তনে ৮০-৯০ দশকের ছাত্র মুভমেন্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি আয়োজিত ‘তারেক রহমানের ভাবনা: আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এ দুটি আন্দোলনই জনগণের শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে ভয় পায়, নির্বাচনকে ভয় পায় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করতে চায়, তারাই বারবার ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবারই গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে হলে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান – উভয়কেই সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা একটাই, বাংলাদেশকে সবার আগে রাখা। জনগণের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের সমৃদ্ধিই এসব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শক্তি।
তিনি ৮০-৯০ দশকের ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ৮০-৯০ দশকের ছাত্রনেতাদের নিয়ে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় ৮০-৯০ দশকের ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।