Saturday 13 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বান্দরবানে কৃষকদের জন্য আধুনিক মানের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুন ২০২৬ ২১:২৮ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ২১:৩৩

নির্মাণকাজ শেষের পথে থাকা কোল্ড স্টোরেজ।

বান্দরবান: পার্বত্য জেলা বান্দরবানে আধুনিক মানের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং মৌসুমি ক্ষতি কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে বান্দরবান জেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুই চেম্বারবিশিষ্ট কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি এরইমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিপুল কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফলমূল ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে তিন পার্বত্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এর ধারাবাহিকতায় বান্দরবানে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল আগস্ট ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে জেনারেটর রুম, মেশিন রুম ও সিঁড়ি নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ সিভিল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রি-কুলিং ও কুলিং চেম্বারে স্যান্ডউইচ প্যানেল স্থাপন শেষ হয়েছে। বর্তমানে টাইলস বসানো, রং ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

প্রকল্পের আওতায় পূর্বে নির্মিত একটি ভবনকে কোল্ড স্টোরেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকায় বোর্ড রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন দখলমুক্ত করে কৃষকবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেও তারা দাবি করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে কৃষকরা ফলমূল ও শাক-সবজি দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন।

চিম্বুক সড়কের বাসিন্দা ভান থাম বম বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় আমরা প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করি। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আগেই পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কোল্ড স্টোরেজ নির্মিত হলে আমরা দীর্ঘসময় কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারব, বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রি করতে পারব এবং আর্থিকভাবে লাভবান হব।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এ কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

স্থানীয় কৃষকরাও জানান, এবার তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। তাদের মতে, কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে ফসলের ক্ষতি কমবে এবং বাজারমূল্য ভালো পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর