বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, পাঠ্যক্রম সংস্কার, মূল্যায়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট কোর্স, শিক্ষণ-পদ্ধতিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং স্কুল নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনার আগ্রহের কথা জানায়।
প্রতিনিধিদল জানায়, তারা প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে, ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়তা করতে এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা বৈশ্বিক জ্ঞান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং শিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করার আগ্রহও প্রকাশ করে।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগসহ শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে। তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনারও উচ্চ প্রশংসা করে এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী, কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পখাত-সংশ্লিষ্ট করতে সরকার কাজ করছে। তিনি শিক্ষার সঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও নাগরিক মূল্যবোধ বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতায় উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে শিক্ষা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন অরুণ রাজামানি, বিনয় শর্মা এবং সারওয়াত মাসুদা রেজা।