ঢাকা: রেলসেবাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও যাত্রীবান্ধব করতে সরকার ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ সংগ্রহের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এই উদ্যোগের প্রথম চালানে ১৯টি ক্যারেজ চলতি সেপ্টেম্বরেই হাতে পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৪৩-এর সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগমের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি সরকারের এসব বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত জাতীয় সংসদীয় অধিবেশনে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রী চাহিদার বিপুল বৃদ্ধিতেও পর্যাপ্ত ট্রেনের অভাব সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই সরকার এই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
সংসদে রেলপথ মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে যাত্রী চাহিদার তুলনায় ট্রেনের আসন সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের নন-এসি কোচে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে। নিয়মিত ট্রেনগুলোতে বাড়তি কোচ যুক্ত করার পরেও চরম ভিড় সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না এবং জরুরি প্রয়োজনে বহু যাত্রী ট্রেনে উঠে পড়েন বলে বাধ্য হয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডিং যাত্রীদের চলাচলের কারণে বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে যে মারাত্মক কষ্ট ও শারীরিক ভোগান্তি পোহাতে হয়, সে বিষয়ে সরকার পুরোপুরি সচেতন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান প্রধান ও অধিক যাত্রী সমাগম হওয়া রুটগুলোতে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং ঈদ, পূজা ও সরকারি দীর্ঘ ছুটির সময় পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষ বা স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা অর্জিত হলে ধীরে ধীরে এই আসনবিহীন টিকিট দেওয়া কমিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে।’
ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে নতুন ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া রেলওয়ের আধুনিকায়ন ও গতি বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন সংগ্রহের বিড ডকুমেন্ট প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে আরও ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের ডিপিপি সরকারের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ আছে।’ পাশাপাশি কোরিয়ার সাশ্রয়ী ইডিসিএফ তহবিলের সহায়তায় আরও ৪৬টি উন্নত ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে পিডিপিপি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বিপুল পরিমাণ এই আধুনিক রোলিংস্টক এবং নতুন নতুন ইঞ্জিনসমূহ বহরে যুক্ত হলে সারাদেশে একযোগে বহু সংখ্যক নতুন ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ ভ্রমণ উপহার দেবে।