Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভোট ব্যবস্থাপনায় আছে চ্যালেঞ্জ / এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা!

নাজনীন লাকী
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৩ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩১

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি

ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলছে ব্যপক প্রস্তুতিও। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক চাপসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আগামী বছর শুরু হবে স্থানীয় সরকারে ভোটযুদ্ধ?

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়েকটি ধাপে আয়োজন করা হবে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিকল্পনা সংস্থাটির। এর পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ। সেসময় দেশের ৩২৩টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ করেছিল তৎকালীন কে এম নূরুল হুদা কমিশন। পরবর্তী সময়ে মোট ছয় ধাপে দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে এএমএম নাসির উদ্দিনের কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা। গত ২৭ আগস্ট নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, ‘নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের প্রথমে ভোট শুরু হতে পারে। আর কমিশন সেই প্রস্তুতি নিয়েই এগুচ্ছে।’

কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইসি। মাঠ পর্যায়ে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক প্রশাসনিক প্রস্তুতিকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে কমিশন। বিশেষ করে বছরের শেষ সময়ে দেশজুড়ে স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক ও চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা। এ ছাড়া শিক্ষকদের নির্বাচনি দায়িত্বে নিযুক্তের বিষয় থাকায় দু’টি কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান শুরুর সম্ভাবনা থাকায় তার আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে কমিশনকে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে- তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেটি চলতি বছরের শেষ দিকে, নাকি কবে হবে-তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’ তবে তিনি এও জানান, কমিশন খুব অল্প পরিসরে হলেও চলতি বছরেই শুরু করতে চায় স্থানীয় নির্বাচন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আগামী সপ্তাহে পর্যালোচনা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা করে এবং কোনো ধরনের একাডেমিক ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন এ বছরেই, নাকি আগামী বছর- সেটি বৈঠকের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হবে উপজেলাভিত্তিক। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একইসঙ্গে হবে। এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলে এবং বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এক সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এতে কমে আসবে সহিংসতা।’

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল আলীম সারাবাংলাকে বলেন, ‘২০২১ সালের নির্বাচনের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতা থেকে ইসির শিক্ষা নেওয়া উচিত। ইউপি নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক একদিনে শেষ করার চিন্তা ইতিবাচক হলেও প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকবে কেন্দ্রগুলোতে পেশীশক্তি ও অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ঠেকানো।’

বিশ্লেষকদের মতে, তাড়াহুড়ো করে পরীক্ষার মৌসুমে ভোট না করে জানুয়ারি বা রমজানের আগেই নির্বাচন গুছিয়ে আনা হলে তা প্রশাসনিক ও শিক্ষাবান্ধব হবে। তবে তার আগে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে শতভাগ নিরপেক্ষ রাখার জোরালো বার্তা দিতে হবে কমিশনকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেবল ভোটের তারিখ পেছানোই সমাধান নয়, বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা। উপজেলাভিত্তিক একদিনে ভোটগ্রহণের যে কৌশল কমিশন নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে মোতায়েন করা সম্ভব হবে কি না?- তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। সেই সঙ্গে প্রার্থী ও সমর্থকদের আস্থায় আনা ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনাও শতভাগ স্বচ্ছ রাখা জরুরি।

সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষভাগে নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নানামুখী জটিলতা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ইসির উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভাগ্য। সেখানেই নির্ধারণ হবে- চলতি বছরের শেষেই ব্যালট বাক্স বসছে, নাকি সব জটিলতা কাটিয়ে ২০২৭ সালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত ভোট।

বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর