ঢাকা: জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোন ডিসেম্বর ও কোন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের সফলতা শীর্ষক’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উত্তরাঞ্চল জাতীয়তাবাদী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. এছাহক আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেস দত্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নাদিরুজ্জামান মন্ডলসহ অনেকে।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, এ রকম ডিসেম্বর মাস আমাদের জীবনে বহু গেছে। ২০৩০ সালের নাকি ৫০ সালের ডিসেম্বর—সেটা দেশবাসীকে স্পষ্ট করে জানান।
হুমকি-ধমকি দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে বিঘ্নিত করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ছাত্র-জনতা, জুলাই যোদ্ধা এবং ১৭ বছরের গুম-খুনের শিকার পরিবারসহ সবাই তার অপেক্ষায় রয়েছে। গত ১৭ বছরের প্রতিটি হত্যার বিচার হবে এবং তাকে বাংলাদেশের মানুষের বিচারের মুখোমুখি হয়ে কাশিমপুর কারাগারে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের কারণে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সমস্ত প্রটোকল ও বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, কৃষক কার্ড ও অসহায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়া শুরু হয়েছে। গত ছয় মাসে দেশে একজন মানুষও গুম হয়নি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশকে বাঁচাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।