ঢাকা: দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করছে।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-সহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৬ সালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘চীন থেকে প্রতিবছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।’
এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি পণ্যের জন্য প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র এবং ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর এবং সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে বাংলাদেশ ও চীন— উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।