Tuesday 29 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

২৫ বোয়িং ও ১০ এয়ার বাস কিনবে বিমান বাংলাদেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৫

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

ঢাকা: উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, “বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। ওই চুক্তির ‘অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার অধিকার’-এর আওতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি।

এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলো। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০সহ মোট ১৫টি ওয়াইডবডি এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ উড়োজাহাজ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র বহর গঠনের লক্ষ্যেই এসব পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে বিমানের নেটওয়ার্ক ও বহর পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সক্ষমতা ও পরিসর, যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াইডবডি ও ন্যারোবডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে পরিচালনার পাশাপাশি বিমানের পুরোনো ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট যাত্রী চাহিদার তুলনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০ শতাংশের কিছু বেশি পরিবহন করতে পারছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিবহন করছে। তাই উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতে সরকার সময়োপযোগীভাবে উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।’ এ উদ্যোগের পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও তিনি জানান।

উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার মূল্য পরিশোধ করা হবে। উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে বলে অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুটের আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই ক্রয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে এ ক্রয়ের কারণে সরাসরি জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ল
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৮

আরো

সম্পর্কিত খবর