Monday 05 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে বিটিআরসি

সারাবাংলা ডেস্ক
৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০৬

বিটিআরসির মহাপরিচালক মো. মেহেদী-উল-সহিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন পরিবীক্ষণ সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম।

ঢাকা: সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জনসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ সেলের স্বাধীন কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ স্বীকৃতি পেয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিটিআরসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (৪ অক্টোবর) বিটিআরসির মহাপরিচালক মো. মেহেদী-উল-সহিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পরিবীক্ষণ সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম।

অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেলের ‘স্ট্রেনথেনিং অব স্টেট-ওনড এন্টারপ্রাইজেস গভর্নেন্স’ শীর্ষক স্কিমের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাছাই করা ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে ৩ দশমিক ১৭ স্কোর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে বিটিআরসি।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইনডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স ইভালুয়েশন কমিটি (আইপেক)’-এর তত্ত্বাবধানে এ মূল্যায়ন করা হয়। এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিচালন দক্ষতা এবং জনস্বার্থমূলক নীতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ধারাবাহিকভাবে বেশি রাজস্ব আদায় করেছে বিটিআরসি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে সংস্থাটি রাজস্ব আদায় করেছে ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা।

গ্রাহকসেবা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানিয়েছে বিটিআরসি। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন, ভয়েস ও ইন্টারনেটের মূল্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ‘এক দেশ, এক মূল্য’ বাস্তবায়ন।

এ ছাড়া গণশুনানি আয়োজন, সেবার মান যাচাই, মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ পরিমাপ, এক জায়গা থেকে বিভিন্ন সেবা প্রদান, অবৈধ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রতিরোধে অভিযান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, স্বচ্ছ লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ, নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এ অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার সঙ্গে কাজ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিটিআরসি।

সংস্থাটি আশা করছে, এই স্বীকৃতি টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে উৎসাহ জোগাবে।

বিজ্ঞাপন

দাম নয়, সামর্থ্যের হিসাব করুন
৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০২

আরো

সম্পর্কিত খবর