Wednesday 14 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করায় মূল্যবান ধাতু ও রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪০

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সেমিনারে কথা বলছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করার কারণে বাংলাদেশ মূল্যবান ধাতু এবং অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, “দেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে গৃহস্থালি ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানি করা যায়। ব্যাসেল কনভেনশনের নিয়ম মেনে বাইরের দেশ থেকে ক্ষতিকর ই-বর্জ্য আমদানি না করে স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বেসরকারি খাত এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়েছে।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও থ্রি-আর নীতির বিষয়ে সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় থ্রি-আর নীতি প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক বা সাধারণ বর্জ্যের পাশাপাশি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ব্যাটারি এবং ইভি বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকরী নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সূর্যের আলো ও উপকূলীয় অঞ্চলের বায়ুকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ন্যায়সঙ্গত স্থানান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।’

বৃক্ষরোপণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, গাছের টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ এবং স্যাটেলাইট ইমেজিং চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণও কোথায় কত গাছ লাগানো হয়েছে বা সবুজের পরিমাণ কেমন বাড়ছে তা সরাসরি দেখতে পারবে।”

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি রয়েছে। ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই। ফলে এ খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পণ্যের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের ৪১টি জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব ইভিএমের ব্যবস্থাপনা বা পুনর্ব্যবহারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিটিআরসির কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) ব্রি. জে. (অব.) ইকবাল আহমেদ, বিটিআরসির ডিরেক্টর জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) ব্রি. জে. শফিউর রহমান, টিআইবি’র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আব্দুল্লাহ জাহিদ ওসমানী, WEEE সোসাইটি বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সুমন আহমেদ সাবির।

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর