ঢাকা: ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সরেজমিনে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং পুলিশি ডগ স্কোয়াড নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ডিএমপির কে-নাইন (K-9) ডগ স্কোয়াড এবং সোয়াতসহ আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর চৌকস সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানী ঢাকার ২৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক পুলিশি উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে আর্চওয়ের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ সারাবাংলা’কে জানান, দুর্গাপূজা ঘিরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করছে। তবে ছয় দিনের এই আনুষ্ঠানিক পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বছরের ৩৬৫ দিনই যেন দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ স্থানে নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেই স্থায়ী পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে মন্দিরে দেবী দর্শনে আসা এক তরুণ বিনয় শর্মা বলেন, ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সবসময়ই নিরাপত্তা থাকে। প্রতিটি পূজাতেই নিরাপত্তার বলয়ে থাকি আমরা। তবে আমাদের প্রত্যাশা, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে, দেশজুড়ে প্রতিটি মন্দিরেই যেনো থাকে নিরাপদ। ধর্মের বাধায় যেন জাতি সম্পর্ক নষ্ট না হয়।’
মন্দিরে পূজা দিতে আসা গৃহিণী রানী সমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের মা প্রতিবছর আসেন মর্তলোকে। আসেন শান্তির বার্তা নিয়ে। এসময় আমরা চাইনা, আমাদের দেশে কোনো হানাহানি মারামারি থাকুক। মায়ের সকল সন্তানরা যেন নিরাপদে থাকে। তাই শুধু পূজায় নয়, এই নিরাপত্তার বলয় থাকুক সবসময়।’
পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ২২ দফার একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলক সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা, সম্ভব হলে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ও বালুর বালতি প্রস্তুত রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আলামত দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।