Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কপ৩১ সামনে রেখে প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় নেগোশিয়েটর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৮ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৯

ঢাকা: আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দক্ষ নেগোশিয়েটর গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে  প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় নেগোশিয়েটর প্রস্তুতি কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ডেলিগেশন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম-ইউএনএফসিসিসি কপ৩১ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) শেষ হয়।

কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার প্রস্তুতি, কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রশমন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ (এনআইইসিসি) আয়োজিত এ কর্মসূচির কৌশলগত অংশীদার ছিল দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ ফাউন্ডেশনের জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগ ক্লাইমা।

কর্মসূচি শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি বছর কপ সম্মেলনের আগে এ ধরনের প্রস্তুতি কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেগোশিয়েটরদের নেতৃত্বে বিষয়ভিত্তিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব দলে সহযোগী সদস্যরা যুক্ত থাকবেন, যাতে অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে তাঁরা আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা ও দরকষাকষির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেগোশিয়েশনের অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান সংরক্ষণ, দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন নেগোশিয়েটর তৈরি করা সম্ভব হবে।

২৭ অক্টোবর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনিরা সুলতানা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (নাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মুনজুরুল হান্নান খান, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কোঅপারেশন লিসা-তানিতা গ্রেমিঙ্গার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানান।

দুই দিনের প্রশিক্ষণে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদ (ইউএনএফসিসিসি) ও প্যারিস চুক্তির আওতায় আলোচনার প্রক্রিয়া, কপ৩১-এর অগ্রাধিকার, জলবায়ু অর্থায়নের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্য, অভিযোজন, সহনশীলতা, ক্ষয়ক্ষতি, প্রশমন, কার্বন বাজার ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া জলবায়ু কূটনীতি, কৌশলগত জোট গঠন, বাংলাদেশের আলোচনার অবস্থান নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নারী, শিশু ও তরুণদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। অনুশীলনভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলবায়ু দরকষাকষির বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার, সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্র এবং যেসব বিষয়ে আপস করা সম্ভব নয়, সেগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট (এলডিসি), জি৭৭ ও চীন, আঞ্চলিক অংশীদার এবং অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং দেশের জন্য বাস্তব সুফল অর্জনই হওয়া উচিত বাংলাদেশের সাফল্যের মাপকাঠি।

কর্মসূচির সহযোগী অংশীদার ছিল বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন- ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন), ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল), হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও রিসোর্স পারসনরাও এতে সহযোগিতা করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বুধবার উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক উপদেষ্টা এ এস এম মারজান নূর, যুগ্মসচিব মনিরা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত ‘দ্য ক্লাইমেট নেগোশিয়েটরস গাইড’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজনের বৈশ্বিক লক্ষ্যের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার তহবিলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, দুই দিনের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত জ্ঞান বিনিময়, কারিগরি সমন্বয় এবং দক্ষ নেগোশিয়েটরদের একটি স্থায়ী জাতীয় পুল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় বাস্তবায়ন চাহিদার সংযোগ জোরদার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমে দেশের ভূমিকা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর