Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আধুনিক হচ্ছে মোংলা বন্দর / ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:১৮ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২১

ঢাকা: মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করা সরকারের ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ কাজ যথাসময়ে শেষ হলে শুধু এই অঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব বন্দরসেবা, ড্রেজিংয়ের পলি ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।’

সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও সবার জন্য লাভজনক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

এ সময় আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্দরের নাব্যতা, নৌ-চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনগত শর্তে এটিকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”

মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এ বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত চার লেনের সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করা প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রফতানিতে মোংলা বন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক বন্দর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও আরও সুদৃঢ় হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই উদ্যোগ দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর