খুলনা: সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আড়ালে শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে। আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনায় রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কুদির বটতলা এলাকায় এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এরইমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড নতুন মজুরি নির্ধারণ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনা অঞ্চল একসময় কারখানার অঞ্চল ছিল। বড়ো বড়ো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার এই খুলনা অঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত পুরো শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু এই মোংলা পোর্টকে ডেভেলপ করব না, আমরা শুধু সমৃদ্ধ করব না, আমরা একই সঙ্গে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য এই পুরো বেল্টকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, অর্থাৎ বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ যা যা প্রয়োজন, আমরা ধীরে ধীরে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বিগত এক যুগের বেশি সময়ে দেশের অবস্থার এবং মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার যেমন কেড়ে নিয়েছিল, এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, এই দেশে গুম-খুনের রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেছিল, এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল—২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।’
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌছান। সেখানে শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের মহাযজ্ঞ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন।