ঢাকা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় কোনো ভোটার যেন ভয়ভীতি বা চাপের মুখে না পড়ে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।‘
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮টি ইসলামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বিবেচনায় রেখে এ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে একইসঙ্গে সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে একটি ন্যূনতম যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতার ধরণ যাই হোক না কেন, নির্ধারিত কিছু আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অবশ্যই রিকশা প্রতীক নিয়ে নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। নির্বাচনের সময়ে প্রশাসনের সামান্য পক্ষপাতিত্বও সেই আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। সভায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা, প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মাওলানা শরাফত হোসাইন এবং মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী প্রমুখ।