চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটকের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন চাকসু নেতারা। শিক্ষক রোমানের বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের বিরোধিতা ও আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতার অভিযোগ আছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক রোমানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষক রোমান শুভর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা থাকার পরও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও তাকে ভর্তি পরীক্ষায় হল গার্ড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা গুরুতর অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’
‘ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে রোমান শুভর উপস্থিতি নিশ্চিত হলে চাকসু প্রতিনিধিরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে দিনভর বসিয়ে রেখে শেষে মামলা না থাকার যুক্তিতে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।’
চাকসুর জিএস আরও বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় চাকসুর নারী নেত্রীকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাইবার বুলিং ও চরিত্রহনন করা হচ্ছে এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ এসব কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান চাকসু নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপাসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। গত ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় তিনি হল পরীক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের জন্য ক্যাম্পাসে আসার পর একদল শিক্ষার্থী তার সামনে উপস্থিত হন। সেটা দেখে তিনি দৌড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে ফেলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন ও সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেন। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব অভিযোগে ওই শিক্ষক বর্তমানে তিনটি পৃথক তদন্তের মুখোমুখি। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের একটি চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে আটক করেন।