ঢাকা: আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ব্যাহত হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করতে।’
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য—যাতে এ দেশের মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে এবং দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতে পারে। কিন্তু আজ বাস্তবতা ভিন্ন। দেশে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার রয়েছে, যাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণে একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘সেই কারণেই জনগণকে ভেবে-চিন্তে ভোট দিতে হবে। অতীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, জনগণ আজ আবার তেমন একটি সরকারের প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল যুগান্তকারী।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যে সরকার বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসের ১২ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খুব বেশি সময় বাকি নেই। তাই নির্বাচনের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনুসের উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় নির্বাচনের নামে দেশে ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়েছে, অনেকে শহিদ ও গুমের শিকার হয়েছেন। সেই ব্যর্থতার দায় এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম।’
তিনি বলেন, ‘অতীত সরকার গায়ের জোরে বারবার ক্ষমতায় থেকেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই দায়িত্ব এখন বর্তমান সরকারের।’
বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৮ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য দোয়া করেন।
নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছে, যা স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যাদের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের উচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ত্রুটিগুলো সরাসরি তুলে ধরা। নইলে এসব বক্তব্য জনগণ কথার কথা হিসেবেই নেবে।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ আজ চরম কষ্টে আছে। গত ১৭–১৮ মাসে দ্রব্যমূল্য কমেনি, বরং বেড়েছে। ভালো নির্বাচনের জন্য যেমন জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নেতৃত্ব পর্যায়ের ব্যক্তিদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা।