ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরও নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, “ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোকে তারেক রহমান ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এমন প্রতিশ্রুতি সরাসরি নির্বাচনি আইনের লঙ্ঘন। অথচ কমিশন তাকে শোকজ করার সাহস দেখাচ্ছে না। প্রশাসন ও কমিশন একদিকে হেলে যাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নাহিদ ইসলামের মতো প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও তারেক রহমানের বেলায় কমিশন কেন নিশ্চুপ? এই বৈষম্যমূলক নীতি প্রমাণ করে যে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।”
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই প্রার্থী বলেন, “আমি গণভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করায় আমাকে শোকজ করা হয়েছে। অথচ আমার ব্যানারে কোনো নির্বাচনি প্রতীক ছিল না। সিটি করপোরেশন, ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিএনপির লোকজন একসঙ্গে গিয়ে আমার ব্যানার খুলে ফেলেছে। আমার প্রশ্ন— প্রশাসন আর বিএনপি কি এখানে হাত মিলিয়েছে? যদি তাই হয়, তবে ঢাকা-৮ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা কে দেবে?”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, বিএনপি নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছেন এবং তার বদলে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু কমিশন অন্ধ সেজে আছে। তারা হয়তো মনে করে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কিছু বললে চাকরি থাকবে না। এমন মেরুদণ্ডহীন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
এ সময় সংবাদমাধ্যমের একাংশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অনেক মিডিয়াই আমাদের এই সত্য কথাগুলো প্রচার করবে না। কারণ অনেক গণমাধ্যম ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দখল করে নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।