সিলেট: বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের রেওয়াজ—সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করা। পুরোনো সেই রেওয়াজের দিকেই হাঁটছেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন বিএনপির শীর্ষ এই নেতা।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা—শুরু করে দলটির শীর্ষ নেতারা। ১৯৯১ সালে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, সেই ধারাবাহিকতায় মায়ের দেখানো পথেই তারেক রহমানের যাত্রা। তাই সিলেট দিয়েই প্রচারের ক্ষণ শুরু করছেন দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিমানযোগে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছবেন তারেক রহমান। পুণ্যভূমিতে পা ফেলে রাতেই হযরত শাহজালাল ও শাহপরান মাজার জিয়ারত শেষে শ্বশুর বাড়ি সিলামে অবস্থান করার কথা রয়েছে। পরদিন ২২ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত সিলেট বিএনপি। দলের প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে সিলেটজুড়ে। নগরীর মোড়ে মোড়ে তারেক রহমান ও সিলেট বিএনপির নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।

মোড়ে মোড়ে তারেক রহমান ও সিলেট বিএনপির নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।। ছবি: সারাবাংলা
বিমানবন্দর থেকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশ ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। মাঠ সাজানো, মঞ্চ নির্মাণ ও জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা।
এদিকে, তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌতুহল। তারেক রহমান নিজেই লন্ডনের এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘আমি হাফ সিলেটি’। সেই কথাটিই সিলেটের মানুষের হৃদয়ে দাগ কেঁটেছে। কারণ তিনি সিলেটের দামান্দ (জামাই)। তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান সিলেটেরই সন্তান। যদিও সফরটি তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সফর নয়। তবুও সিলেটের মানুষের মধ্যে বাড়তি আনন্দ বিরাজ লক্ষ করা যাচ্ছে। তার আগমন উপলক্ষ্যে স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বাড়িতে চলছে এলাহী আয়োজন। শত শত মানুষকে রান্না করে শিরনি বিতরণ করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় আনন্দে ভরে উঠেছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন ও বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর। এ আগমন ঘিরে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

সিলেটে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সারাবাংলা
তারেক রহমানের সিলেট সফরকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ও রয়েছে কৌতুহল ও প্রত্যাশা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সিলেট শুধু একটি বিভাগীয় শহর নয় বরং রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখান থেকেই জাতীয় নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে করার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নতুন বার্তা দিতে চায় দলটি। বিশেষ করে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেট হওয়ায় এই সফরে রয়েছে আলাদা আবেগ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব।
তারেক রহমানের জনসভা সম্পন্ন করতে আলিয়া মাদরাসা মাঠে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতি মিনিটে মিনিটে বিএনপি নেতারা আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। বিএনপি এই জনসভাকে একটি বড় শোডাউন হিসেবে দেখাতে চায়। এ জনসভায় পারতপক্ষে তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দলের নেতারা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই সমাবেশ বিভাগীয় সমাবেশ না। তবুও এই সমাবেশ সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি সিলেটের স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ হবে। অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।’

মোড়ে মোড়ে তারেক রহমান ও সিলেট বিএনপির নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।। ছবি: সারাবাংলা
এর আগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমান বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছাবেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা ঘিরে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।