ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী-পুরুষ সবাই মিলে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গঠন করব। যারা এর বাইরে আজে বাজে কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, আমাদের মায়েরা, আমাদের ভাইয়েরা তাদের জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মেহেরবানি করে মায়েদের ইজ্জত নিয়ে টান দেবেন না, তাহলে আগুন জলবে। সব সহ্য করব, কিন্তু মায়েদের ইজ্জতের ব্যাপারে কাউকে বরদাশত করব না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনগণের প্রতি প্রশ্ন করেন, কার কার ঘরে নারী নেই- হাত তোলেন, মা-বোন কার ঘরে নেই। একজনও হাত তোলে না। তখন তিনি বলেন, ‘মা ছাড়া দুনিয়ায় শুধু হযরত আদম (আ.) ও (হাওয়া আ.) জন্ম নিয়েছেন। আর কোনো মানুষ মায়ের পেট ছাড়া দুনিয়ায় আসেননি। সুতরাং আমরা সবাই মায়ের কাছে ঋণি। বাপের পেটে জন্ম নিয়েছেন এমন কেউ আছেন? তাও নেই। বাপের দুধ খেয়েছেন এমনও কেউ নাই। অতএব এই দুই জায়গায় মায়েরা অন্যন্যা, অতুলনীয়। আমরা সেই মায়েদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চাই। কর্মক্ষেত্রে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আল্লাহ যদি তার মেহেরবানিতে জনগণের ভোটে আমাদের নির্বাচিত করেন। সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে আমরা মায়েদের নিরাপত্তায় সবকিছু করব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘সমাজে সবরকমের দুঃশাসন-দুর্নীতির কারণ হলো ইনসাফ না থাকা। ইনসাফ যদি থাকতো তাহলে লুটেরারা ব্যাংক ডাকাতি করে এই দেশ থেকে পালাতে পারতো না। দেশে দেশে বেগম পাড়া বানাতে পারতো না।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘যারা নিজেদের দলের লোকদেরকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি, দুর্নীতি সন্ত্রাস পাথর মেরে গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা- এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে, আশা করি আগামীর বাংলাদেশ তারা জনগণকে উপহার দিতে পারবে। আর যারা এগুলো পারবে না, তারা জাতিকে যতই রঙিন স্বপ্ন দেখাবেন, জাতির তাদের সেই মতলব বুঝতে কষ্ট হবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘কারও সমালোচনা করতে চাই না। কারণ, আমি যখন ডান দিকে বাম দিকে তাকাই তখন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, যারা ফ্যাসিবাদের মূল দোসর ছিল, এখন তাদের দেখতে পাই না। এখন আছেন তারা, যারা ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছিলেন। তাদের সকলের প্রতি আমাদের বিনয়ী অনুরোধ, ফ্যাসিবাদের যে কষ্টটা আমরা আপনারা সকলে ভোগ করেছি। মেহেরবানি করে এই কষ্টটা কেউ আর জনগণকে দেবেন না। আমরা দেখতে চাই, এগুলো বন্ধ হচ্ছে। যদি বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী ১২তারিখে জনগণ দুইটা হ্যাঁ ভোট দেবে। আর অনেকগুলো না ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ। একটা হ্যাঁ ভোট হচ্ছে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকায়। দ্বিতীয় হ্যাঁ হচ্ছে, দেশের স্বার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা। ১০ দলকে বিজয়ী করার মানে হচ্ছে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট। এর অর্থ হচ্ছে চাঁদাবাজের বিপক্ষে হ্যাঁ ভোট। এর অর্থ হচ্ছে দখলদারদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট। এর অর্থ হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট। এর অর্থ হচ্ছে ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে হ্যাঁ ভোট।’
তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসনে বিজয় লাভ করে, আমরা কথা দিচ্ছি- বাসার গ্যাস সাপ্লাই, রাস্তা, ড্রেন, খাল দখলমুক্ত করা হবে। আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে সব সমস্যার সমাধান করব। এই এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। সব স্কুল-কলেজ উন্নতমানের করা হবে।’
তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই ধরণের কার্ডের কোনো ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে কি একটা পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে? হবে না। আমাদের নাহিদ সাহেব বললেন (মঞ্চে বসে ছিলেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম), এই কার্ড পেতেও ভাগ দিতে হবে। সেখানে এক হাজার টাকা চলে যাবে।’
এই সমাবেশের মাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও মিছিলসহকারে জনসভাস্থলে আসতে থাকে। দুপুরের আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে উঠে। দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। সমাবেশ ঘিরে পুরো মিরপুর এলাকায় মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
জনসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান প্রমুখ।
ঢাকা-১৫ আসন পরিচালক আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন শহিদ আব্দুল হান্নান খানের ছেলে ডা. সাইফ খান। আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুল মতিন খান, আনোয়ারুল করিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা তাওহিদুজ্জামান, তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি প্রমুখ।