চট্টগ্রাম ব্যুরো: অন্তত ৩০০ লোক বসার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। সমাবেশস্থলে মাইক লাগানোর কাজও শেষপর্যায়ে। ময়দানের আশপাশে স্থাপন করা হচ্ছে ডিজিটাল পর্দা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামের সাক্ষী চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দান প্রস্তুত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অপেক্ষায়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে তারেক রহমান পলোগ্রাউন্ডে নির্বাচনি সমাবেশ করবেন। এতে ১৫ থেকে ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।
সমাবেশের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘সমাবেশের সব প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি। এখন কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখছি। ঘাটতি পেলে সেটা পূরণ করে নেওয়া হচ্ছে।’
কী পরিমাণ জনসমাগম হতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০ বছরেরও বেশিসময়, প্রায় ২১ বছর পর আমাদের নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। এরই মধ্যে আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে কী পরিমাণের আগ্রহ, উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি ও প্রচারে কোনো ঘাটতি নেই। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল সহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমরা আশা করছি, ১৫ থেকে ২০ লাখ লোকের সমাগম হবে।’

সমাবেশস্থল আশপাশের ৪-৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইক লাগানো হচ্ছে। ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে বৈরি পরিবেশে ২০১২ সালে আপসহীন নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আমরা মহাসমাবেশ করেছিলাম। ওই পরিবেশে আমরা সেটা বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল। আজকের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর উনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে যে বার্তা নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে…মানুষের উচ্ছ্বাস আমরা দেখেছি। মানুষের মধ্যে ইমোশন কাজ করছে। উচ্ছ্বাস ও ইমোশনের মিশ্রণে আগামীকালের সমাবেশ আশা করি মহাসমুদ্রে রূপান্তর হবে।’
২৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী রোববারের সমাবেশে যোগ দেবেন জানিয়ে শাহাদাতের আশা, সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মিছিলের নগরীতে পরিণত হবে। নগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় তারেক রহমান পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশে যোগ দেবেন। সেই সমাবেশের জন্য শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতেই তিনি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবেন।
সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে সাত ফুট উচ্চতার মঞ্চ। এর দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট ও প্রস্থ ৬০ ফুট। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অন্তত ৩০০ লোকের বসার উপযোগী করে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া, সমাবেশস্থল আশপাশের আরও ৪-৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইক লাগানো হচ্ছে। তবে মঞ্চের আশপাশে মাইক লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। মাঠের বাইরে থাকা লোকজন যাতে তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি দেখতে পান, সেজন্য স্থাপন করা হচ্ছে ১০টি এলইডি স্ক্রিন।
সমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) আজ (শনিবার) ও আগামীকাল (রোববার) নগরীতে অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট–পাথর বহন ও ব্যবহার, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-বিরোধী কোনো কিছু প্রদর্শন বা প্ল্যাকার্ড বহন ও ব্যবহার এবং জনসমাবেশ এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমানের সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যান সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। ছবি: সারাবাংলা
এদিকে আজ দুপুরে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমানের সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যান সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে বিমানে রওনা দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ এ তারেক রহমান চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে গিয়ে তিনি রাতযাপন করবেন।
ঢাকা থেকে আসা বহরে ৮-১০ জনের বেশি থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) টিম চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। পলোগ্রাউন্ড মাঠসহ পুরো সমাবেশস্থল এবং আশপাশের এলাকা রেকি করে তারা বিমানবন্দরে যাবেন।’
মেয়র জানান, রোববার পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশের আগে সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করবেন তারেক রহমান। এর পর পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ শেষ করে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে ফেনী, কুমিল্লাা ও নারায়ণগঞ্জে আরও মোট পাঁচটি সমাবেশে যোগ দেবেন।
তারেক রহমানের সফর ঘিরে সারা চট্টগ্রামে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি শৃঙ্খলার মাধ্যমে একটি সমাবেশ চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দিতে পারব। সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছে।’
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি প্রচারে এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং এক পর্যায়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে।