Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ দম্পতি ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
১১ মার্চ ২০২৬ ০০:০৭

সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ দম্পতি ও তাদের ছেলের। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর: পিরোজপুর–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও ছেলে শাম্মাম জুনাই ইফতির বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোতে সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাই ইফতিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের আগে তিনটি অভিযোগেরই প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন পিরোজপুর দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর–২ আসনের সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নামে ১২২টি লিজকৃত জমি, বাড়ি, মার্কেট ও দোকানসহ মোট ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়িসহ ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪২ টাকা। এ হিসাবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা। কোনো দায়-দেনা না থাকায় দুদক তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকা।

অপরদিকে তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর পরিশোধ ও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে দুদকের অনুসন্ধানে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৬ টাকা।

এ ছাড়া, তাদের ছেলে শাম্মাম জুনাই ইফতির মোট সম্পদ পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৬ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার পড়াশোনার ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। ফলে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা।

মামলার এজাহারে দুদক উল্লেখ করেছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। অভিযোগ রয়েছে, তার পিতা মহিউদ্দিন মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ছেলের নামে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ওই অবৈধ অর্থ তার দখলে থাকায় তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর এলজিইডির টেন্ডারের নামে কোনো কাজ না করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও দুদক আটটি মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ওজোন দিবস আজ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৫

ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৭

আরো

সম্পর্কিত খবর