Tuesday 03 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়’

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৫ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৫

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ‎সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর রহমান বলেছেন, অভিযোগগুলো মনগড়া নয়। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ধাপে এগিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ।

‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সচিব জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো তদন্তে প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে তথ্য পেতে এমএলআর পাঠানো হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি ধাপে অগ্রসর হবে কমিশন।
‎
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক কথাই বলা হচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য রাখেন, দেখেন আমরা কী করছি। নিজেরাই বুঝতে পারবেন এটা মনগড়া কি না, বা আমরা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি কি না। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এখন অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

বিজ্ঞাপন

আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এরই মধ্যে দুদকে পৌঁছেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরবর্তীতে গত রোববার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং বিশ্বের পাঁচটি দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের মতো নতুন অভিযোগ যুক্ত করে পরিধি বাড়ানো হয়।

অভিযোগ অনুসারে, নিজের দুই বোন জামাই ও ভাগনিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও পর্তুগালে এসব অর্থ পাচার ও সম্পদ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, ওয়াসা ও এলজিইডিতে নিয়োগ ঘুস এবং নিজের এলাকা মুরাদনগরে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে বাবা ও এপিএসকে দিয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন যে টাকার অংকটা আসলে কত, কারণ একেক সময় একেক কথা বলা হচ্ছে।’

তিনি এই অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের মাথাব্যথা নেই। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এরই মধ্যে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।

‎সারাবাংলা/এনএল/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর