বগুড়া: দেশে ফেরার পর নিজ জেলা বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনে উত্তরের ১৬ জেলা সাজানো হয়েছে অপরুপ সাজে। উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসীর দাবি বাস্তবায়নে কথা বলবেন তিনি।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিতৃভূমি বগুড়ায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষ্যে শহরে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভাস্থল প্রস্তুত করেছেন জেলা বিএনপি। তার এই আগমনকে ঘিরে বগুড়ায় বইছে উৎসবের আমেজ। জেলাজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও সাজ সাজ রব পড়েছে। দলীয় নেতাকর্মীসহ বগুড়াবাসী তাকে বরণ করতে মুখিয়ে আছেন। এ ছাড়া, প্রস্তুত করা হয়েছে তার পিতৃভূমি বাগবাড়ীর জিয়া বাড়িটি।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে ২৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে চায় জেলা বিএনপি। এ জন্য সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সামনে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান জেলাবাসী।
১৯ বছর আগে দলের সিনিয়র মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান বগুড়ায় এসেছিলেন। প্রায় দুই দশক পর দলের শীর্ষ নেতা হয়ে আবারও আসছেন বগুড়ায়। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এই জেলার মানুষ। তার আসার খবরে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছে বগুড়া।
এদিকে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপি মিডিয়া সেল রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে অবস্থিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি ও জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। জিয়ার এই পৈতৃক বাড়ি ও হাসপাতালটি আমরা বিএনপির পরিবারের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমনের সার্বিক নির্দেশনায় দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যবর্ধন করতে নানা রঙের ফুলের চারা রোপন করা হয়েছে। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাসাস বগুড়া শহর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান পিয়াস, বগুড়া ফুটবল একাডেমির সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য ও বগুড়ার ফোরস্টার হোটেল নাজ গার্ডেনের স্বত্বতাধিকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. শোকরানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়ায় রাত্রি যাপনের জন্য ফোরস্টার হোটেল নাজ গার্ডেনের ৩১০ নম্বর প্রেসিডেন্টসিয়াল সুইট রুম প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি শুধু আমার প্রিয় নেতা তারেক রহমানের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। নানা রঙে সাজানো হয়েছে হোটেল নাজ গার্ডেন।’
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভা ছাড়াও নির্বাচনি মাঠে প্রচারে অংশ নেবেন তিনি। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বগুড়ায় বিএনপি নেতকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তার এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বগুড়ার জনসমক্ষে তুলে ধরবেন তিনি।
বগুড়ায় তারেক রহমান বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মনজিদ, শহরের দত্তবাড়ী শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল, জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। এরপর ৩০ জানুয়ারি সকালে বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর ও সাবগ্রামসহ তার নির্বাচনি এলাকায় পথসভায় বক্তব্য দিবেন। এদিন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পৃথক পৃথক পথসভা করবেন। পথসভা শেষে তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী পিতৃভূমিতে পা রাখবেন। পরের দিন সকালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক হয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। এই সফরে তিনি উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসীর দাবি বাস্তবায়নে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা ১৭ আসনের পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। বগুড়ার গাবতলীতে তারেক রহমানের বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে (গাবতলী-শাজাহানপুর) বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারে বগুড়া-৬ (সদর) লড়ছেন তারেক রহমান। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত এই আসন। যা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিত। এই আসনে তারেক রহমান যে ভোট পাবেন তা ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা বিএনপি নেতাকর্মীদের।