ঢাকা: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুয়েকজন নেতা এখন বলছেন, আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও সে সময় কেউ তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি।
বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল এই অভিযোগ ওঠার পর গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল। বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? কারণ, তারা সরকারে ছিলেন এবং ভালো করেই জানতেন যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।’ তার সেই বক্তব্যের জবাব দিলেন জামায়াত আমির।
জামায়াতের আমির বলেন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোনো কথা? তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন। আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে, আপনি একজন চাঁদাবাজ।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধীরা রাজপথে এসে একটাই স্লোগান দিয়েছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা কোনো বৈষম্য, অবিচার মানব না। এই সমাজে অবশ্যই ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানেই সমস্যা। এই যে চাঁদাবাজ, এই যে দখলবাজ, এই যে মামলাবাজ, এই যে দুর্নীতিবাজ এই সবগুলো বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপরে এসে ছোঁ মারে।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান সেটি দেখা হবে না। এক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে আলামত ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।