রংপুর: দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নির্বাচনি প্রচারে রংপুরে এসে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষিঋণ মওকুফ, এনজিও ঋণ পরিশোধ ও তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছেন। রংপুরকে ‘সম্ভাবনাময় অঞ্চল’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রংপুরকে সত্যিকারের উন্নয়নের পথে নিতে সঠিক নেতৃত্ব দরকার। আমরা সেই নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখ ফজরের নামাজের পরেই ভোট দিবেন, যেনো কেউ ষড়যন্ত্র করতে না পারে। একই সঙ্গে তিনি ধানের শীষ মার্কায় ভোট এবং হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় লাখো মানুষের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি তার প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাগুলো উল্লেখ করে বলেন, আগামী ১২ তারিখ সরকার গঠন করলে কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হবে। ১৩ তারিখ সরকার গঠনে সক্ষম হলে রংপুর অঞ্চলের সকল এনজিও ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হবে। পীরগঞ্জে (শহিদ আবু সাঈদের এলাকা) কয়লা খনির সম্পদ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে; ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। আইটি কোম্পানিগুলোকে কর ছাড় দেওয়া হবে।
‘এ ছাড়া নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে দলমত নির্বিশেষে সকল মা বোনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে; প্রত্যেক কৃষকের হাতে একটি ফসলের বীজ দেওয়া হবে। তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে; মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, যে অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য তারা উৎসর্গ করেছে, সেই জুলাই সনদকে সম্মান করতে হবে। আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণ করা হবে।’
দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। গত ১৬ বছরের মেগা দুর্নীতির বিচার হবে। আবু সাঈদের হত্যাকারীদের মতো দুর্নীতিবাজদেরও বিচার করা হবে। বিএনপিই একমাত্র দল যারা দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে।’

কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভা
একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা বিএনপিকে দুর্নীতিবাজ বলছে, তাদের দুজন সদস্য খালেদা জিয়া সরকারে কেন পদত্যাগ করেনি? সরকারের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তারা ছিল। এটা প্রমাণ করে খালেদা জিয়া সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ছিল।’
সংস্কার ও জনগণের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, আড়াই বছর আগে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। বর্তমান সরকারও সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো লুকোছাপা করিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্তই আমাদের শেষ সিদ্ধান্ত। আজ সময় এসেছে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়ার, আবু সাঈদের স্বপ্ন পূরণের। আল্লাহ আপনাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন—দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এই সুযোগ ব্যবহার করুন।
বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন। এরপর রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।
জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জায়ান্ট স্ক্রিন ও মাইকের মাধ্যমে পুরো রংপুর নগরীতে বক্তব্য সম্প্রচার হয়েছে।