রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবুর রহমানকে গাড়ি আটকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াত-শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী এনসিপি-জামায়াত কর্মীদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একজনকে আটক করে। উভয়পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সরেয়ারতল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, জাপা প্রার্থী মাহবুবুর রহমান তার আত্মীয়ের জানাজা শেষ করে নগরী থেকে পীরগাছার দিকে ফিরছিলেন। তার গাড়ি সরেয়ারতল এলাকায় পৌঁছালে এনসিপির শাপলা কলি স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলে ১০-১২ জন যুবক পথরোধ করে। তারা গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে প্রার্থীকে হেনস্তা করেন এবং তার সঙ্গীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এ সময় তারা অভিযোগ তোলেন যে, প্রার্থী নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন, যা আইনবিরুদ্ধ।
ঘটনায় চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে এনসিপি-জামায়াত কর্মীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। পরে স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং এনসিপি কর্মী আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীম ও বিপ্লবকে আটক করেন। সংঘর্ষে শামীম ও বিপ্লবের মাথা ফেটে যায় এবং তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় জামায়াতের স্থানীয় ওয়ার্ড সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে একটি দোকানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু অন্যরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। ঘটনার প্রতিবাদে জাপা সমর্থকরা রংপুর-পীরগাছা সড়কে বিক্ষোভ করেন।
জাপা প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনি এলাকায় নয়, রংপুর নগরীতে ব্যক্তিগত কাজে আসার সময় এ ঘটনা ঘটেছে। এনসিপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব তৈরি করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তারা সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। জাপার জোয়ার দেখে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করছি।’
অন্যদিকে এনসিপির পীরগাছা প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জাপা প্রার্থী আইন অমান্য করে প্রচার চালাচ্ছিলেন। তাকে বিরত রাখতে এলাকাবাসী পথরোধ করে। পরে তার গুন্ডাবাহিনী আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। তারাই মব সৃষ্টি করে এখন আমাদের দোষারোপ করছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। জাপা প্রার্থীর কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন— এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি), বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাপার আবু নাসের শাহ মাহবুবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।
নির্বাচনের আগের দিন এমন ঘটনা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।