Thursday 12 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে ১১ দলীয় জোটের ঝড়
জামায়াত ৫টি, এনসিপি ১টিতে জয়ী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৮ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ফাইল ছবি

রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তরের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে অভাবনীয় জয় পেয়েছে ১১ দলীয় জোট। এর মধ্যে পাঁচটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এবং একটি আসনে জয় পেয়েছে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। জেলায় গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যা গত নির্বাচনের চেয়ে কম হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের এই বিজয়কে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় জনসমর্থনের ফল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রংপুরে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে পড়ায় এবং বিএনপির পরাজয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটার ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে রংপুর-৪ আসনে (৫১ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং সর্বনিম্ন রংপুর-৩ আসনে (৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ)।

নিচে আসনভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরা হলো

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া): জামায়াতের রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা) বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ): জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট।

রংপুর-৩ (সদর): জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৫ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। জিএম কাদের (লাঙ্গল) পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা): এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি) ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর): জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ): জামায়াতের নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে জয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ ভোট। মাত্র ১ হাজার ৫১৪ ভোটের ব্যবধানে জয়।

জামায়াতের এই বিজয় উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণের সমর্থন তাদের শক্তি। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে পড়ায় দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আর বিএনপির প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের প্রভাবে ভোটার হয়রানি হয়েছে। তবে, প্রশাসন সেসব অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে এবং সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫২

আরো

সম্পর্কিত খবর