ঢাকা: কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উনারা (ইসি) বলেছেন ১৩ তারিখের ভেতরে রেজাল্ট দেবেন। আমরা সেটার অপেক্ষায় আছি। তারা দেন কি না। যদি দিয়ে থাকেন ভাল, না দিয়ে থাকলে আমরা সংযত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আমরা যা করার করব।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি বিস্তারিত বিষয়গুলো কালকে অথবা পরশু দিনের মধ্যে পেয়ে যাব। নির্বাচন কমিশনও আশ্বস্ত করেছে, তারা ১৩ তারিখের ভেতরে রেজাল্ট দেবেন। কিন্তু এই যে কিছু আসনে ইদুর বিড়াল খেলা, এমনকি ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন? সেখানে কি হচ্ছে এটা আপনারা সাংবাদিকরা জানেন। এই বিষয়গুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় বহন করে না। জাতিকে যতটুকু জানানো দরকার জানাব।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু স্থানীয়ভাবে যারা রিটার্নিং অফিসার আছেন তারা ঘোষণা দিচ্ছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না, এটা কেন। মাঝখানে ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে দেখা গেল যে, কে কতটা আসন পেয়েছে দেওয়া হলো, মাঝখান থেকে উধাও হয়ে গেল, আবার নাই। আমাদের লোকদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হলো। একদম প্রথম পর্যায়ে দশটা বারোটা কেন্দ্রের যে ফলাফল সেগুলো ঘোষণা করা শুরু করেছে। সেটা আবার বেসরকারি। আমরা সবমিলিয়ে এখন আপনাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না বলে আমরা দুঃখিত। আমরা আবার বসব। আমাদের মধ্যে এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করব তারপর দেব।’
‘আমাদেরও কোনো ত্রুটি, ঘাটতি থাকলে সেটাও আমরা দেখব। আবার সামগ্রীক কোনো বড় ত্রুটি ঘাটতি থাকলে সেটাও সামনে আনব। আমরা আগেও বলেছি ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করব না।’
তিনি বলেন, ‘পুরানা রাজনীতিক সংস্কৃতিতেও আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে যারা রাজনীতি করবেন তাদেরকে এ কথা মেনে নিতে হবে যে, পাস করার নিশ্চয়তা নিয়ে কোনো নির্বাচনও হয় না, কোনো রাজনীতিও হয় না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনি আপনার বক্তব্য নিয়ে মানুষের কাছে যাবেন, মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, যতটুকু গ্রহণ করবে, তাকে আপনার অভিনন্দন জানানো উচিত। দেশবাসী আমাদেরকে যতটুকু সহযোগিতা করেছেন এজন্য আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করছি সরকার দ্রুতই অফিসিয়াল রেজাল্ট পাবলিশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আবার আপনাদেরকে কষ্ট দেব। তখন আমরা আমাদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গী জাতিকেও জানিয়ে দেব, আপনাদেরকেও জানিয়ে দেব। তবে আশ্বস্ত থাকতে পারেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হবে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি। কল্যাণ ধারার রাজনীতি। মানুষের জন্যে রাজনীতি। দলের জন্য রাজনীতি নয়। বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা ওই রাজনীতি আমরা করবো না।’
‘কোরআনের একটা মূলনীতি আছে। তোমরা ভাল কাজে সহযোগিতা করো, আর কাজটা যদি মন্দ হয়, অকল্যাণকর হয়, তাহলে তোমরা বিরোধীতা করো, অথবা তোমরা সহযোগিতা থেকে বিরত থাকো। আমাদের মূলনীতি মূলত ওটাই হবে। ভাল কাজে সহযোগিতা থাকবে, মন্দ কাজে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের অধিকার রক্ষার জন্যে আমাদের কথা বলতে হবে।’
জামায়াত কতটা আসনে এখন পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটার কোনো সঠিক উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ বেশ কিছু আসন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বুথ ফেরত যে সাইন করা সিট আমাদের কাছে এসেছে, সেখানে আমরা দেখতেছি আমরা এগিয়ে আছি, কিন্তু সেটা নিয়ে লোকালে বিভিন্ন তালবাহানা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে দেখতে হবে, আরও একটু এই আছে, ওই আছে। এই-ওইটা কি আমরা বুঝতে পারছি না। এই-ওই;র বাইরে এসে আমাদেরকে একটা ক্লিয়ার মেসেজ দিলেই আমরা তখন বলতে পারব, আমাদের অবস্থানটা কি?’
আপনারা কোনো কারচুপি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাপারে সন্দেহ করছেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুতো হয়েছে, এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা বলেছি যে সবকিছুর ফাইনাল যখন আমাদের হাতে এসে যাবে, সবদিকের তথ্য নিয়ে আমরা ১১ দল বসে সব তথ্য কম্পাইল করে আপনাদের সামনে আসবো।‘
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘ওনাদের ফল ঘোষণাই চূড়ান্ত হবে না। তখন অন্য দায়িত্ব আমাদের ওপর পড়ে যাবে। ওইটা আমাদেরকে করতে হবে। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই জনগণের রায় যেটাই হোক সেটাই আমাদের সামনে আসে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।