Tuesday 17 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তারেক রহমানের ‘সিক্রেট ফাইলে’ আগামীর মন্ত্রিসভা

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০২

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্বে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পর জনমনে এখন একটিই প্রশ্ন, কেমন হবে আগামীর মন্ত্রিসভা? দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতার মসনদে ফিরতে যাওয়া দলটির ভেতরে বইছে নতুন উদ্দীপনা। তবে সেই উদ্দীপনার সমান্তরালে কাজ করছে এক গভীর গোপনীয়তা।

সংসদীয় দলের সভা ও আগামীর নেতৃত্ব

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। শপথ নেওয়ার পর পরই বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবন এলাকায় বসছে বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ সভা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সভাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হচ্ছে। দলীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হলেও সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী আজই তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

তারেক রহমানের টেবিলে সেই ‘সিক্রেট ফাইল’

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক পাড়ায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সবখানেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, এসব তালিকার প্রায় সবটাই অনুমাননির্ভর।

প্রকৃতপক্ষে নতুন মন্ত্রিসভার অবয়ব কেমন হবে, তা নিয়ে একটি ‘সিক্রেট ফাইল’ এখন তারেক রহমানের টেবিলে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তিনি এই তালিকা চূড়ান্ত করছেন। এমনকি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যও এখনো জানেন না, কার ভাগ্যে জুটছে কোন দফতর। এই কঠোর গোপনীয়তা এটাই প্রমাণ করে যে, এবারের সরকার গঠনে আনুগত্যের চেয়ে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে অধিক গুরুত্ব দিতে চাইছেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক।

অভ্যন্তরীণ গুঞ্জন ও বিএনপির জবাব

নতুন মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিজ্ঞ এই নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মন্ত্রিত্ব বণ্টন বা দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে তার কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তার এই নির্লিপ্ততা মূলত দলের হাই কমান্ডের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিগত দেড় দশকে যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রিত্বের প্রত্যাশা করছেন। তবে এবার ব্যক্তিগত ত্যাগের পাশাপাশি মেধা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সরাসরি চেয়ারম্যানের কাছে তদবির করার সুযোগ না থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন কেবল অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

নতুন এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রমিত আজাদ। তার মতে, বিএনপির এবারের মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়াটি প্রথাগত ধারার বাইরে। তিনি মনে করেন, জনমানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনকাঠামো তৈরি করাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিএনপি নেতাদের নীরবতা ইঙ্গিত দেয় যে, দলে এখন শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ফিরে এসেছে, যা একটি স্থিতিশীল সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

শপথের পর নতুন সূর্যোদয়

আজ বিকেলেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সংসদীয় দলের এই সভা মূলত নতুন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করার শেষ ধাপ। ২০৯টি আসনের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের চোখ এখন বঙ্গভবন ও সংসদের দিকে।

অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই সরকার কতটা সফলভাবে রাষ্ট্রীয় সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের সেই সিক্রেট ফাইলটি যখন উন্মুক্ত হবে, তখনই স্পষ্ট হবে বাংলাদেশের আগামী দিনের প্রশাসনিক গন্তব্য।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর