Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ওপর যুবদলের হামলা, আহত ২

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ মার্চ ২০২৬ ০০:২২

কক্সবাজার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ওপর যুবদলের হামলায় দুই জন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার: কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ফের সাংবাদিকদের ‘গণধোলাই’ দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে পৌঁছালে কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান।

হামলায় আহত হয়েছেন গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা ও স্থানীয় টেলিগ্রাম নিউজের সাংবাদিক মুহাম্মদ আবান এবং কালের কণ্ঠ অনলাইনের কক্সবাজার প্রতিনিধি মিশু দাশ গুপ্তসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় সাংবাদিক আবানকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিজ্ঞাপন

হামলার সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন বাবুর মোবাইল ফোন এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কক্সবাজার বার্তার সাংবাদিক জালালের মোবাইল ফোন। মোট তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আহত সাংবাদিক মুহাম্মদ আবান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে তোদের কাছে কী- এই কথা বলে প্রথমে বুকে লাথি মারেন যুবদল নেতা আমির আলি। পরে আমাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়াজিসহ কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকেন।’

সাংবাদিক মিশু দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমি যখন প্রশ্ন করি সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন করা হয়েছে, তখন আমার ওপরও হামলা করা হয় এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আমার মোবাইলটি ফিরে পেলেও কয়েকজনের মোবাইল তারা নিয়ে গেছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্টার নিউজের প্রতিবেদক মুহিব উল্লাহ মুহিব বলেন, ‘আমার সামনেই যুবদল নেতা আমির আলীর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা আমির আলি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দলীয় কর্মী মনে করে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’ ভিডিওতে মারধরের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘তাহলে সেটা ভুল বোঝাবুঝি। আমি বিষয়টি সমাধান করতে চাই।’

এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের আরও মারধরের হুমকি দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহ-দফতর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিয়াজি। এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের ‘গণধোলাই’ দেওয়া হয়েছে এবং আরও দেওয়া প্রয়োজন। তার এমন বক্তব্যে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সময় বিমানবন্দর এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরা সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার পরপরই সাংবাদিকেরা কক্সবাজার শহরের কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকেরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর