ঢাকা: রাজনীতি থেকে ‘প্রতিহিংসার বিষ’ এবং ‘দুর্নীতির ক্যানসার’ দূর করতে না পারলে গত ৫৫ বছরের মতো ভবিষ্যতেও দেশ কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা কেবল আসনের জন্য রাজনীতি করি না, জনগণের অধিকার কায়েমের জন্য রাজনীতি করি।
সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মরহুম শফিউল আলম প্রধানের হাতে গড়া সংগঠন জাগপার উদ্যোগে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে দলটির ও জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ১২ দলীয় জোটের ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা জোটগতভাবে যখন বসেছি, তখন একটি কথাই বলেছি— আমরা শুধু আসনের জন্য আসিনি, জনগণের ভোটাধিকার ও অধিকার কায়েমের জন্য এসেছি। আমরা কথা দিচ্ছি, প্রিয় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমরা কখনো বেইমানি করব না। সস্তা কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।
দেশের চলমান সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি স্বাধীনতাপরবর্তী ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রের কথা স্মরণ করেন। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আজকেও দেশের একজন বরেণ্য ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেছেন— আমরা কবে মানুষ হবো? সত্যিই আমাদের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করতে হবে।
ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের আমির। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলের বিজয়ের জন্য নয়, এই লড়াই হবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের লড়াই।
জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অব. অলি আহমদ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ও পিরোজপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামী ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, নেক্সাস ডিফেন্স অব জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসির, হাসিনার আমলে গুম হওয়া কর্নেল হাসিনুর রহমান, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, হাজী মো. হাসমত উল্লাহ, ভিপি মজিবুর রহমান প্রমুখ।