ঢাকা: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতারা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উপস্থিত হন এবং জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
জামায়াত আমিরের কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান নেতৃত্ব দেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য হাফেয বায়েজিদ বোস্তামী ও সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি জাতি গঠন প্রশ্নে ইসলামের অবদান ও বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় আধিপত্যবাদী তৎপরতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি চলমান যুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিজয় কামনা করেন। এ সময় ইরান প্রসঙ্গে তিনি কোনো সভ্যতার একেবারে পরাজিত না হওয়ার ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরেন।
বৈঠকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নে ইসলামকে জাতি গঠনের কোর উপাদান উল্লেখ করেন। তিনি জামায়াত আমিরকে দেশের প্রধান ইসলামী দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জাতীয় অভিভাবকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
খোমেনী ইহসান জামায়াত আমিরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদী আইনে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।’ এ সময় দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ১৯৯৬ সালের পর জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধীদল জামায়াতের জোরালো ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কাছে জাতি সকল বিরোধীদলের মধ্য ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রত্যাশ করে। এরকম উদ্যোগ নেওয়া হলে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ সাড়া দেবে।’
জবাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদকে স্বাগত জানান। তিনি নতুন এ দলটির সঙ্গে আলাপ আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, নতুন মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ জুলাই গণহত্যার বিচার ও দেশ পুনর্গঠন প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর অংশ হিসেবে দলটি মুসলিম লীগের পর বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ করল।